রেমিটেন্সে নতুন রেকর্ড !
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ঘেটে দেখা যায়, ২০০০ ২০০১ অর্থবছরে ১৮৮ কোটি ডলার রেমিটেন্স এসেছিল। চলতি নভেম্বর মাসের ২১ দিনেই এসেছে ১২৫ কোটি ডলার। এ ধারা অব্যাহত থাকলে নভেম্বর মাসে সবমিলিয়ে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ ১৮০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম।
আর তাতে এক মাসের হিসাবে নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স আসবে।এখন পর্যন্ত এক মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছে গত মে মাসে; ১৭৪ কোটি ৮২ লাখ ডলার।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরেও ভালো প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে রেমিটেন্স।জুলাই থেকে ১০০ টাকা রেমিটেন্স পাঠালে ২ টাকা প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। যার ফলে বাড়ছে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক।
“এছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মধ্যপাচ্যের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হয়েছে।সে সব দেশে অবস্থানকারী আমাদের প্রবাসীরা এখন বেশি মজুরি পাচ্ছেন; বেশি অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন।”
অর্থনীতির গবেষক বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, একমাত্র রেমিটেন্স ছাড়া অর্থনীতির অন্য সব সূচকের অবস্থা এখন খারাপ। রপ্তানি বাণিজ্যে ধস নেমেছে। রাজস্ব আদায় কমছে। মূল্যস্ফীতি উর্ধ্বমুখী।চাপে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ।আমদানিও কমছে।বিনিয়োগে খরা কাটছে না।ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পাহাড়।শেয়ারবাজারে তো মন্দা লেগেই আছে।
“সে কারণেই বলা যায়, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সই এখন সচল রেখেছে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা।”
কেন্দ্রীয় ব্যাংক রোববার রেমিটেন্সের সাপ্তাহিক তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, চলতি নভেম্বর মাসের ২১ দিনে (১ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বরে) ১২৫ কোটি ৩ লাখ (১.২৫ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।
এ নিয়ে চলতি ২০১৯ ২০ অর্থবছরে (৪ মাস ২১ দিনে) মোট রেমিটেন্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৪০ কোটি ৪৫ লাখ (৭.৪০ বিলিয়ন) ডলার। গত অক্টোবর মাসে ১৬৪ কোটি ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।যা ছিল এক মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিটেন্স।সেপ্টেম্বরে পাঠিয়েছিলেন ১৪৬ কোটি ৮৪ লাখ ডলার।
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স প্রবাহে সুখবর দিয়ে শেষ হয় ২০১৮ ১৯ অর্থবছর। গত অর্থবছরে আগের বছরের চেয়ে ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।
তার আগে ২০১৭ ১৮ অর্থবছরে রেমিটেন্সে প্রবৃদ্ধি ছিল আরও বেশি; ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ। গত ৭ অক্টোবর ‘বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, রেমিটেন্স এবার ২০ বিলিয়ন (২ হাজার কোটি) ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
সেক্ষেত্রেও হবে আরেকটি রেকর্ড। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।প্রবাসীরা এখন ১০০ টাকা দেশে পাঠালে যার নামে টাকা পাঠাচ্ছেন তিনি ঔ ১০০ টাকার সঙ্গে ২ টাকা যোগ করে ১০২ টাকা তুলতে পারছেন।
বাজেটে এ জন্য ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা ঘোষণা করেছে। ৬ অগাস্ট তা প্রকাশ করা হয়েছে; তাতে বলা হয়েছে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে প্রণোদনা পেতে ১ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত কোন ধরনের কাগজপত্র লাগবে না।
তবে রেমিটেন্সের পরিমাণ এই অংকের বেশি হলে প্রাপককে প্রেরকের পাসপোর্টের কপি এবং বিদেশী নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগপত্র অবশ্যই জমা দিতে হবে।আর ব্যবসায়ী ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবসার লাইসেন্সের কপি দাখিল করতে হবে। গত ২০১৮ ১৯ অর্থবছরে এক হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ (১৬.৪২ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। ২০১৭ ১৮ অর্থবছরে এসেছিল এক হাজার ৪৯৮ কোটি ১৭ লাখ (১৪.৯৮ বিলিয়ন) ডলার।
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হল বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ বা রেমিটেন্স। বর্তমানে এক কোটির বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। জিডিপিতে তাদের পাঠানো অর্থের অবদান ১২ শতাংশের মত।
স্থানীয় বাজারে ডলারের তেজিভাব এবং হুন্ডি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই রেমিটেন্স বাড়ছে বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে রোববার প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়েছে। এক বছর আগে ৩১ অক্টোবর ডলার টাকার বিনিময় হার ছিল ৮৩ টাকা ৮৫ পয়সা।
#এসএস/বিবি/২৪ ১১ ২০১৯
Share with others:
Recent Posts
Recently published articles!
-
অর্থনীতি ডেস্ক, বিবি
-
শেয়ারবাজার ডেস্ক, বিবি
-
ব্যাংক ডেস্ক, বিবি
-
অর্থনীতি ডেস্ক, বিবি
-
ব্যবসা ডেস্ক, বিবি