বিদেশ থেকে এনেও কমেনি পেঁয়াজের দাম

বিদেশ থেকে এনেও কমেনি পেঁয়াজের দাম

বিদেশ থেকে বিমানযোগে আনার পরেও দাম কমেনি পেঁয়াজের। পাইকারি বাজারে গিয়ে রাজধানীর ক্রেতাদের এখন এক কেজি দেশি পেঁয়াজ ২২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। আর যেসব পেঁয়াজ মানুষ পছন্দ করে না বলে ব্যবসায়ীরা আমদানি করতেন না, সেই চীন, মিসর ও তুরস্কের ঝাঁজহীন বড় বড় পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে।

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, গত বছর এ সময়ে পেঁয়াজের কেজি ছিল ২৫ থেকে ৪০ টাকা। ফলে এখনকার এক কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম গত বছরের সাড়ে পাঁচ কেজির সমান।

পাঁচজনের একটি পরিবারে মাসে গড়পড়তা পাঁচ কেজি পেঁয়াজ লাগে। কেউ যদি খুচরা বাজার থেকে এখন পাঁচ কেজি দেশি পেঁয়াজ কেনেন, তাহলে দাম পড়বে ১ হাজার ১০০ টাকা, যা দুই চুলার এক মাসের গ্যাস বিলের চেয়ে ১২৫ টাকা বেশি। আবার মোটামুটি এক মাসের বিদ্যুৎ বিলের সমান।

ঝাঁজ কেবল পেঁয়াজেই নয়, চলতি মাসে ঢাকায় সরু চালের দামও কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা, মাঝারি ৩ থেকে ৪ টাকা ও মোটা চালের দাম কেজিপ্রতি ২ টাকার মতো বেড়েছে। সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে লিটারে ৩ থেকে ৪ টাকা। আটার কেজি ১ থেকে ২ টাকা বাড়তি। খোলা ময়দার দাম বেড়েছে কেজিতে ৮ টাকা। ডিমের ডজন এখন ১০০ ১০৫ টাকা। মূল্যবৃদ্ধির গুজবে লবণ কিনতেও বাড়তি ব্যয় করে ফেলেছেন অনেকে।

অবশ্য মানুষ এখন পেঁয়াজ কেনা কমিয়ে দিয়েছে। যে পরিবারে মাসে পাঁচ কেজি লাগত, তারা এখন কিনছে দুই কেজি। দরিদ্র মানুষকে পেঁয়াজ কেনা বাদ দেওয়ার পর্যায়ে নিতে হয়েছে। অনেকে এখন পেঁয়াজের বদলে পেঁয়াজপাতা কিনছেন। নতুন মৌসুমের শুরুতে গোড়ায় ছোট ছোট পেঁয়াজসহ পেঁয়াজপাতা বিক্রি হচ্ছে। কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা। অথচ আশা করা হয়েছিল, উড়োজাহাজে উড়িয়ে এনে সরবরাহ বাড়ালে দাম কমবে। বিপুল পরিমাণ আমদানির খবরে বাজারও সাড়া দিচ্ছিল। শ্যামবাজার ও কারওয়ান বাজারে দাম কমছিল।

কিন্তু গত বুধবার থেকে বাজার আবার বেঁকে বসে। বাড়তে শুরু করে দেশি পেঁয়াজের দাম। অন্যদিকে শুক্রবার ও শনিবার বেড়ে যায় আমদানি করা পেঁয়াজের দামও। রাজধানীতে এক কেজি দেশি পেঁয়াজ ২২০ টাকা। চীন মিসর তুরস্কের পেঁয়াজ ১৪০ ১৫০ টাকা। মানুষ এখন পেঁয়াজ কেনা কমিয়ে দিয়েছে।

পুরান ঢাকার শ্যামবাজারে গতকাল বিকেলে দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, চীনা পেঁয়াজ ৯০ ১০০ টাকা এবং মিসর ও তুরস্কের পেঁয়াজ ১১০ ১১৫ টাকা দরে বিক্রির কথা জানান ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে পাকিস্তানি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা দরে। কারওয়ান বাজারের পাইকারি দোকানে (৫ কেজি করে কেনা যায়) গতকাল বিকেলে দেশি পেঁয়াজ ২০০ টাকা, মিসর ও তুরস্কের পেঁয়াজ ১১৫ ১২০ টাকা এবং পাকিস্তানি পেঁয়াজ ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়।

ঢাকার বাইরে বিভাগীয় ও বড় শহরগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে গতকাল দুপুরের পর মিয়ানমারের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, রাজশাহীতে দেশি ২০০ ও বিদেশি ১৭০ ১৮০ টাকা, খুলনায় দেশি পেঁয়াজ ১৯০ ২০০ টাকা, বরিশালে ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা, রংপুরে পেঁয়াজ ২৪০ টাকা, কুমিল্লায় ২২০ টাকা, ময়মনসিংহে দেশি ২০০ টাকা ও বিদেশি পেঁয়াজ ১৬০ কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

#এসএস/বিবি/২৪ ১১ ২০১৯


অর্থনীতি ডেস্ক, বিবি
Published at: রবি, নভেম্বর ২৪, ২০১৯ ১২:৫১ পূর্বাহ্ন
Share with others:

Recent Posts

Recently published articles!